নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ৫৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান সংস্কারমুখী সময় পর্যন্ত অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। তবে ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৭১-র মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-র স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে গণতন্ত্রের যে আকুতি ছিল, তার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় দেশের বিশিষ্টজনরা তাকে এভাবেই স্মরণ করেন।
বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তনে বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একটি আদর্শের নাম। ১৯০০ সালের সেই উত্তাল বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় থেকেই বাঙালি এক স্বতন্ত্র পরিচয়ের খোঁজ করেছিল, যা ১৯৭১ সালে পূর্ণতা পায়। কিন্তু স্বাধীনতার পর সামরিক ও বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রের বেড়াজালে যখন গণতন্ত্র বন্দি হয়, তখনই ১৯৮০-র দশকে রাজপথে আবির্ভূত হন খালেদা জিয়া। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫-এর সংস্কারকাল পেরিয়ে ২০২৬-এর আজকের প্রেক্ষাপটে তার অনুপস্থিতি এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
শোকসভায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়াকে ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার আড়ালে তাকে নিষিদ্ধ ‘মেথোট্রেক্সেট’ ওষুধ সেবন করানো হয়েছিল, যা তার লিভারের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায়। অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, “এটি তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি।”
শোকসভায় বক্তারা বেগম জিয়ার সেই কালজয়ী উক্তি স্মরণ করেন— “বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কিন্তু প্রভু নেই, দেশই আমার আসল ঠিকানা।” সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশিষ্টজনরা খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান বা উপাধি দেওয়ার দাবি জানান।
বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য:
ড. আসিফ নজরুল (আইন উপদেষ্টা): “বেগম খালেদা জিয়া ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তাকে ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।”
শফিক রেহমান (সম্পাদক, যায়যায়দিন): “প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বারবার বলছেন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে উৎসবমুখর। সেই নির্বাচন সফল করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
মাহফুজ আনাম (সম্পাদক, ডেইলি স্টার): “খালেদা জিয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সমালোচনা গ্রহণের ধৈর্য রাখতেন, যা তাকে অমর করে রাখবে।”
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: “জাতির এই সন্ধিক্ষণে তার পরামর্শ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।”
এদিন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা পরিণত হয়েছিল এক জনসমুদ্রে। শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান এবং জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, যিনি এদিন সকালেই উত্তরার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার প্রতিনিধি দল এবং ২৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান মঞ্চে থাকলেও কোনো বক্তব্য রাখেননি, যা রাজনৈতিক মহলে তার গম্ভীর ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯০০ সালের সেই সংগ্রাম আজ ২০২৬ সালে এসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একদিকে উত্তরার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রাজনৈতিক দলগুলোর দাঁড়ানো, অন্যদিকে পটুয়াখালীতে নুরুল হক নুরের নির্বাচনী নতুন সমীকরণ—সবই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর মতে, “খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।”
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, নাগরিক শোকসভার কার্যবিবরণী, এনসিপি ও জামায়াতের প্রেস উইং এবং গুগল নিউজ ডেটাসোর্স।
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |